১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
অবৈধ বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে মুহুরী সেচ প্রকল্প
প্রকাশিত : ডিসেম্বর ২৯, ২০২০ ৫:০৮ পূর্বাহ্ণ
আপডেট : October 05, 2020 8:47 pm

ডেস্ক রিপোর্ট: মুহুরী নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। এতে করে সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়তে পারে দেশের ষষ্ঠ বৃহৎ মুহুরী সেচ প্রকল্প। গত কয়েক মাস ধরে মুহুরী নদী থেকে দেদারসে বালু উত্তোলন চলছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, মিরসরাই উপজেলার পশ্চিম তাজপুর গোবিন্দপুর মৌজায় ও সোনাগাজী উপজেলার চর সোনাপুর থাককোয়াছি লামছি মৌজায় অবস্থিত মুহুরী নদীতে পাঁচ-ছয়টি বড় ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এরপর বালুগুলো ইঞ্জিনচালিত নৌকা করে ধুমঘাট ও বিভিন্ন স্পটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বিভিন্ন সেলস সেন্টারে রেখে তা বিক্রি করা হচ্ছে। এভাবে নদীর মিরসরাই অংশের মোবারকঘোনা থেকে মুহুরী প্রজেক্ট পর্যন্ত অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের উৎসব চলছে। প্রতিদিন ওই সব এলাকার পাঁচটি স্পট থেকে লাখ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী একটি মহল। অথচ ওই সব স্পট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে নামে ইজারা দেয়া হয়নি।

বালু উত্তোলন কাজে নিয়োজিত একাধিক শ্রমিকের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, ইজারা নেয়া হয়েছে কি-না আমরা বলতে পারব না। আমাদের বালু উত্তোলন করতে নিয়ে আসা হয়েছে। তাই আমরা বালু উত্তোলন করছি। কার মাধ্যমে এসেছেন, কে বালু উত্তোলন করছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা নাম জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

জানা গেছে, গত ২৩ নভেম্বর থেকে মুহুরী নদীতে মিরসরাই এলাকায় ইজারা নেয়া তিনটি বালুঘাটে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এরপর থেকে ওই সব ঘাটে মিরসরাইয়ের বৈধ ইজারাদারেরা বালু উত্তোলন বন্ধ রেখেছেন। এ সুযোগে সোনাগাজী, ছাগলনাইয়া ও ফেনী সদরের বিভিন্ন প্রভাবশালী সিন্ডিকেট রাত-দিন নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে। এ ছাড়া ওই সব সিন্ডিকেট ধুম মৌজার মোবারকঘোনা, কাটা মোবারকঘোনা ও মুহুরী প্রজেক্ট ঘেঁষে বালু উত্তোলন করছে। অথচ মিরসরাই অঞ্চলের বৈধ ইজারাদারেরা বালু উত্তোলন করতে পারছেন না।

উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের পশ্চিম আজমপুর এলাকায় গিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, সোনাগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার লোকজন প্রতিদিন ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছে। একাধিক সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফাজিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুল হক রিপন। তারা এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখলে নদীর পাশে অবস্থিত শত শত মৎস্য প্রকল্পের বাঁধ ভেঙে যাবে। এ ছাড়া হুমকির মুখে পড়বে মুহুরী সেচ প্রকল্প। তাই প্রশাসনের কাছে তারা মুহুরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করার দাবি জানান।

এদিকে মিরসরাইয়ে ইজারাদারদের বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় একশ্রেণীর বালু ব্যবসায়ী তিনগুণ দামে বালু বিক্রি করছেন। সাত-আাট টাকা মূল্যের বালু এখন ২৩-২৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে মানুষকে।

এ বিষয়ে ওসমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুল হক বলেন, ফেনী অংশের একটি সিন্ডিকেট নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। চক্রটি নদীর ১৫০ থেকে ২০০ ফুট গভীর থেকে বালু উত্তোলন করায় নদীর পাড় ধসে পড়বে এবং ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজুর রহমান বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে আমি অবগত নই। খোঁজখবর নিয়ে দেখছি নদীর মিরসরাই নাকি সোনাগাজী সীমানায় বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।