১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
আশা জাগাচ্ছে বিনা ধান-১৭, চার মাসে ঘরে ফসল
প্রকাশিত : নভেম্বর ০৪, ২০২০ ৫:৩২ পূর্বাহ্ণ
আপডেট : October 05, 2020 8:47 pm

ডেস্ক রিপোর্ট: বিনা উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ও স্বল্প জীবত্কালীন বিনা ধান-১৭ চাষে আশার আলো দেখছেন কুড়িগ্রামের কৃষকরা। প্রদর্শনী প্লট দেখেই আগামীতে এ ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন অনেকে। চলতি বছর জেলার রাজারহাট, ফুলবাড়ী ও নাগেশ্বরী উপজেলায় ২৩টি প্রদর্শনী প্লটে এ জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে। বিনা ধান-১৭ খরাসহিঞ্চু এবং ১১২-১১৮ দিনের মধ্যেই ঘরে তোলা যায়। সেই সঙ্গে ফলনও বেশি হয়। এছাড়া আমন মৌসুমের এ ধান আগাম জাতের হওয়ায় ধান ঘরে তোলার পর একই জমিতে কৃষকরা রবি ফসল চাষ করতে পারবেন।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এ ধান চাষে কৃষকরা হেক্টরপ্রতি গড় ফলন পাবেন ৬ দশমিক ৮ টন। আর সর্বোচ্চ ফলন হেক্টরপ্রতি আট টন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, স্থানীয় কৃষকদের মাধ্যমে তিন উপজেলায় ৩০ শতক করে জমিতে ২৩টি প্রদর্শনী প্লট তৈরি করে উৎসাহিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার ও ইউএসএইডের অর্থায়নে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা কেয়ার বাংলাদেশের সৌহার্দ্য-৩ কর্মসূচির আওতায় মহীদেব যুবকল্যাণ সমিতি বাস্তবায়ন করছে। বিনা উদ্ভাবিত এ ধান সম্প্রসারণে সার্বিক সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট রংপুর।

এ উপলক্ষে গতকাল দুপুরে রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের মীরের বাড়ি গ্রামে বিনা ধান-১৭-এর শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সামসুদ্দিন মিয়া। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিনা রংপুরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শম্পা আক্তার, মো. জাকির হোসেন, কেয়ার বাংলাদেশের সিনিয়র টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর হেদায়েতুল ইসলাম, প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. সাবেদ আলী প্রমুখ।

রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের কৃষক তবারক আলী বলেন, এবার আমি কেয়ারের সহযোগিতায় বিনা ধান-১৭ চাষ করেছি। ধান লাগানোর ১১২ দিনের মধ্যে গতকাল কর্তন করলাম। এত কম সময়ে ধান ঘরে তোলা যাবে এটা আশাও করিনি। এখন এ জমিতে আমি সরিষা চাষ করব। পরে বোরো ধানও লাগাতে পারব। এ জমিতে আগে বছরে দুবার চাষ হলেও এবার তিনবার ফসল ফলানো যাবে।

এ ধানের ফলন দেখে মাঠ দিবসে আসা কৃষক মতিয়ার রহমান বলেন, আগামী মৌসুমে আগাম জাতের এ ধান চাষ করব। তবে বীজ সহজলভ্য করার দাবি জানান তিনি।

বিনা রংপুরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জানান, লবণাক্ত এলাকা ছাড়া দেশের সব রোপা আমন অঞ্চল বিশেষ করে উত্তারাঞ্চলের বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, পাবনা, রাজশাহীসহ ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, কুষ্টিয়া ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে এ জাতের ধানের অধিক ফলন পাওয়া গেছে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সামসুদ্দিন মিয়া বলেন, স্বল্পমেয়াদি এ জাতের ধান চাষ করলে কৃষকরা একই জমিতে তিনবার ফসল ফলাতে পারবেন।