১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
ঈশ্বরদীতে রাস্তা ঠিক রাখতে এলজিইডি অফিসের ব্যতিক্রমী কৌশল
প্রকাশিত : ডিসেম্বর ০৯, ২০২০ ২:২২ অপরাহ্ণ
আপডেট : October 05, 2020 8:47 pm

ডেস্ক রিপোর্ট: কম ওজন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন রাস্তায় অতিরিক্ত ভারী ওজনের যানবাহন চলায় মেরামতের কয়েকদিনের মধ্যে নষ্ট হচ্ছে রাস্তা। সমস্ত রাস্তায় সৃষ্টি হচ্ছে অগভীর থেকে গভীর খানাখন্দের। ফলে ছোট ছোট যানবাহন যোগে চলাচল করতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় পথচারীদের। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে এবার নির্মাণকৃত নতুন রাস্তায় লোহার পাইপের বারপোস্ট পুতেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ঈশ্বরদী উপজেলা প্রকৌশল অফিস।

ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের চররূপপুর জিগাতলা স্কুলমোড়, লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের পাকুড়িয়া এমপি মোড়, বিলকেদা ও সাহাপুর ইউনিয়নের বাবুলচারা মোড়ে রাস্তার ক্ষতিকারক ভারী যানবাহন চলাচলরোধে লোহার বারপোস্ট বসানো হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ঈশ্বরদী উপজেলা প্রকৌশলী এনামুল কবির এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

মোড়ের দোকানদার, রাস্তায় চলাচল করা অটোরিকশা, সিএনজি, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চালকদের দেওয়া তথ্য মতে, উপজেলার লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে বালু ও মাটি ভর্তি ভারী ট্রাক ও ট্রাক্টরগুলো দিনরাত ২৪ ঘণ্টা গ্রামের ভিতরের এসব হালকা রাস্তা দিয়ে চলাচল করতো। এই সময় ট্রাক ও ট্রাক্টর থেকে কাদা মাটি পড়ে রাস্তায় চলাচল করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়তো। বাতাসে ট্রাক ও ট্রাক্টর থেকে বালু বের হয়ে পুরো রাস্তা অন্ধকার হয়ে যেতো। আবার এসব ভারী যানবাহন চলাচল করায় রাস্তাগুলো নানা রকম খানাখন্দের সৃষ্টি হতো। এতে ছোট ছোট যানবাহনগুলো চলাচল করতে খুবই কষ্ট হতো। কিন্তু রাস্তার খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্থানে উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের পক্ষ থেকে লোহার বারপোস্ট পোঁতার কারণে এখন আর ওইসব ভারী যানবাহন এসব রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারছে না। ফলে রাস্তাগুলো বেশ সুন্দর রয়েছে। পরিবেশও ভালো রয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ঈশ্বরদী উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্র মতে, ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নে বৈধ-অবৈধ প্রায় ৫৬টি ইটভাটা রয়েছে। সম্প্রতি একটি মাটি ও বালু চোর সিন্ডিকেট পদ্মানদী থেকে বালু উত্তোলন করছে। মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছে। এসব মাটি ও বালু আনা নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ১০ চাকার, ৬ চাকার ভারী ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টর। যেগুলো ওজন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ টনের মতো হয়। কিন্তু এলজিইডি কর্তৃক ইউনিয়নগুলোতে সর্বোচ্চ ১৭ টন ওজনের যানবাহন চলাচল উপযোগী করে রাস্তা নির্মাণ করা হয়। এসব রাস্তা দিয়ে দিনরাত ওইসব বালু ও মাটি বোঝায় ট্রাক, ট্রাক্টর অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চলাচল করছে। এতে রাস্তাগুলো খুবই অল্পদিনের মধ্যেই বিটুমিন ভেঙে পকেট হয়ে যাচ্ছে। পুরো রাস্তা অগভীর থেকে গভীর খানাখন্দের সৃষ্টি হচ্ছে। সমস্ত রাস্তার দুই পাশ ভেঙ্গে চলাচলের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে। জনগণের চলাচলের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে বারবার খানাখন্দ মেরামত করা হয়। কিন্তু কয়েকদিন পর পূর্বের অবস্থায় রাস্তাগুলো ফিরে আসছে। এতে সরকারি প্রচুর পরিমাণ টাকা ক্ষতিসাধন হচ্ছে। তাই রাস্তাগুলোর ভাঙ্গনরোধ করে সরকারি টাকার অপচয় রোধে এবার রাস্তায় লোহার বারপোস্ট পোঁতা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ঈশ্বরদী উপজেলা প্রকৌশলী এনামুল কবির জানান, উপজেলার লক্ষ্মীকুন্ডা, পাকশীর বিভিন্ন এলাকায় বালু-মাটি আনা নেওয়ার জন্য ভারী যানবাহন চলাচলের আলাদা রাস্তা রয়েছে। কিন্তু চালকরা ভারী ট্রাক ও ট্রাক্টরগুলো লক্ষ্মীকুন্ডার বিভিন্ন স্থান থেকে অতিরিক্ত বোঝাই নিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল উপযোগী রাস্তা দিয়ে চলাফেরা না করে রাস্তার দূরত্ব কমানোর জন্য কম ওজন ধারণকারী গ্রামের রাস্তাগুলো দিয়ে চলাচল করে। তাতে রাস্তাগুলো খুবই তাড়াতাড়ি ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছিল। তাই স্থানীয় চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আলোচনা করে গ্রামের হালকা রাস্তাগুলো দিয়ে অতিরিক্ত বোঝাইকৃত যানবাহন চলাচল রোধে প্রাথমিকভাবে চারটি জায়গায় লোহার বারপোস্ট পোঁতা হয়েছে। এই বারপোস্টের কারণে এখন আর ওইসব রাস্তা দিয়ে বালু ও মাটি বোঝাইকৃত ট্রাক ও ট্রাক্টর চলাচল করতে পারছে না। ফলে তারা বাধ্য হয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করার উপযোগী রাস্তা দিয়েই এখন চলাচল করছে।