১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
উদ্বোধনের পরই ধসে পড়ল হেজাক ট্যাঙ্ক
প্রকাশিত : জানুয়ারি ০৬, ২০২১ ৫:০০ পূর্বাহ্ণ
আপডেট : October 05, 2020 8:47 pm

তাহিরপুর উপজেলায় বালিজুড়ি ইউনিয়নের আঙ্গারুলি হাওরে বিএডিসির নির্মাণাধীন হেজাক ট্যাঙ্কটি (নদীর পানি তুলে সেচের জন্য জমিয়ে রাখার ট্যাঙ্ক) উদ্বোধনের পাঁচ মিনিট পরই ধসে পড়েছে। ট্যাঙ্ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় এ অবস্থা হয়েছে বলে অভিযোগ কৃষকসহ এলাকাবাসীর।

উপজেলার আঙ্গারুলি হাওরের ৫০০ একর বোরো জমিতে পানি সেচ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (বিএডিসি) অধীনে নির্মাণ করা হয় হেজাক ট্যাঙ্কটি। ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ট্যাঙ্কটির নির্মাণকাজ কাজ পায় সুনামগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আকিল এন্টারপ্রাইজ। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রক্তি নদীর পাড়ে হেজাক ট্যাঙ্কটি উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পাঁচ মিনিট পরই একটি দেয়াল পানির চাপে ধসে পড়ে যায়। তবে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। এলাকার কৃষকদের অভিযোগ, ট্যাঙ্ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। এ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের বালু-পাথর। এ ছাড়া রডের পরিমাণও কম দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

আঙ্গারুলি হাওর সেচ প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক বালিজুড়ি গ্রামের কৃষক মছদ্দর আলী বলেন, ট্যাঙ্ক নির্মাণে নিম্নমানের বালু-পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া রডের পরিমাণও কম দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই ভেঙে পড়েছে।

একই গ্রামের কৃষক ফেরদৌস আলম বলেন, ‘বুকভরা আশা নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম রোপিত জমিতে পানি দেওয়া হবে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও বিএডিসির প্রকৌশলীদের তদারকির অভাবে ট্যাঙ্কটি উদ্বোধনের সময়ই ভেঙে পড়ল।

বিএডিসি সুনামগঞ্জের সহকারী প্রকৌশলী হোসাইন মোহাম্মদ খালিদুজ্জামান বলেন, আঙ্গারুলি হাওরের বোরো জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য বালিজুড়ি দক্ষিণপাড়া গ্রামের আব্দুল হালিমের বাড়ি সংলগ্ন ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ট্যাঙ্কটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় চাপে ভেঙে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঠিকাদার ঠিকমতোই কাজ করেছেন। নির্মাণকাজে নিম্নমান সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয়। ট্যাঙ্কটি কেন ধসে পড়ল, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।