১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
খাল ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ
প্রকাশিত : ডিসেম্বর ১৭, ২০২০ ৫:১৮ পূর্বাহ্ণ
আপডেট : October 05, 2020 8:47 pm

ডেস্ক রিপোর্ট: বেলাবতে পানি নিস্কাশনের খাল ও স্লুইসগেট বন্ধ করে বাড়ি ও গরুর খামার নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী ও বালু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে চাষ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে প্রায় পাঁচ গ্রামের কয়েকশ একর জমি। সমস্যা সমাধানে সাহায্য চেয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, শিল্প মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেও সুরাহা পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। ঘটনাটি উপজেলার বিন্নাবাইদ ইউনিয়নের চরছায়েট গ্রামের।

বিন্নাবাইদ ইউনিয়নের কৃষি অধ্যুষিত গ্রাম চরছায়েট, চর কাশিমনগর, রেহাই লতিফপুর, রাজারামপুর ও চরলতিফপুর। ওই গ্রামগুলোতে রয়েছে ঘনিয়াধর, লটিয়াধর, সুতারলরী, কৈয়াকর ও জোড়বিল নামে বেশ কয়েকটি বিল। এসব বিলেরসহ বৃষ্টির পানি একটি মাত্র খাল দিয়ে আড়িয়াল খাঁ নদে প্রবাহিত হয়। সম্প্রতি আড়িয়াল খাঁ নদ খননের সময় এর বালু খাল ও স্লুইসগেটের কাছে নিজস্ব জমিতে ফেলে আংশিক খাল বন্ধ করে দেয় চরছায়েট গ্রামের দুলাল মিয়া, বরজু মিয়া, হান্নান মুন্সি ও রজব আলী নামে কয়েক প্রভাবশালী।

তাদের দেখাদেখি রাতের আঁধারে চরছায়েট গ্রামের মৃত জাহাদ আলীর ছেলে শুকুর মাহমুদ ও মৃত ইসমত আলীর ছেলে বরজু মিয়া ও দুলাল মিয়া বালু দিয়ে

পুরোনো খাল বন্ধ করে নির্মাণ করে টিনের চৌচালা ঘর ও গরুর খামার। ফলে বন্ধ হয়ে যায় বিল ও বৃষ্টির পানি নিস্কাশনের একমাত্র পথ। যার কারণে বিন্নাবাইদ ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের সহস্রাধিক কৃষকের প্রায় কয়েকশ একর জমিতে সৃষ্টি হয় স্থায়ী জলাবদ্ধতা। পানি নিস্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে ধান, পাট, গম, আলু, মুলা, কলাসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় এ এলাকার কৃষকদের।

চরছায়েট নামক স্থানে আড়িয়াল খাঁ নদ খননের বালু দিয়ে আংশিক খাল ও স্লুইসগেট ভরাট করে ফেলেছে এলাকার বালু ব্যবসায়ীরা। এর পাশেই শুকর আলী, বরজু মিয়া ও দুলাল মিয়া সম্পূর্ণ খাল বালু দিয়ে ভরাট করে তৈরি করেছে টিনের ঘর ও গরুর খামার। ফলে বন্ধ হয়ে পড়েছে পানি নিস্কাশনের দুইশ বছরের একমাত্র খালের মুখ। খালের মুখ বন্ধ হয়ে পানি ও কচুরিপানা জমে সৃষ্টি হয়েছে শত শত হেক্টর জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। ফসলি এসব জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ফসল আবাদ করতে না পেরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন জমির মালিকরা।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আসাদ মিয়া, মেহেদী হাসান ও আঙ্গুর মিয়া বলেন, খাল বন্ধ করায় আমাদের প্রায় ১০ বিঘা জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বারবার চেষ্টা করেও আমরা এ সমস্যার সমাধান করতে পারছি না। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন, শত শত কৃষকের জীবন বাঁচাতে যেন এগিয়ে আসে।

অভিযুক্ত শুকুর আলী খাল ভরাট করে ঘর নির্মাণের কথা স্বীকার করে বলেন, এ জমিটি খাস নয়, এটা আমাদের ক্রয় করা। আমাদের ক্রয় করা জমির ওপর এ খালটি ছিল। তাই আমরা আমাদের জমি ভরাট করে ঘর নির্মাণ করেছি।

অভিযুক্ত বালু ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া বলেন, আড়িয়াল খাঁ নদ খননের বালু আমরা খালের কাছে নিজস্ব জমিতে ফেলেছি। এতে খাল তেমন বেশি ভরাট হয়নি। আমিও চাই খাল হোক। আর যারা খাল ভরাট করেছে, তাদের মধ্যে আমার ভাইও একজন। তাই আমাকে তাদের পক্ষেই সংগত কারণে অবস্থান নিতে হচ্ছে। আর খাল ভরাট করে যারা ঘর নির্মাণ করেছে, শুনেছি রেকর্ডে সে জমি তাদের। এ কারণেই তারা ভরাট করে ঘর নির্মাণ করেছে।

বিন্নাবাইদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোস্তফা গোলাপ বলেন, বালু ফেলে খালের মুখ বন্ধ করে ফেলেছে কিছু দুষ্ট প্রকৃতির লোক। ফলে আমার ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সহস্রাধিক আবাদি জমিতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। অনেকবার চেষ্টা করেও এ সমস্যাটি সমাধান করতে পারিনি।

ইউএনও শামিমা শরমিন বলেন, সমস্যাটি সমাধানে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। সামনে টেন্ডার হবে। আশা করছি, এ সমস্যার সমাধান হবে।