২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
চট্টগ্রামে এলএনজির সংকটে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুেকন্দ্র বন্ধ
প্রকাশিত : ডিসেম্বর ০৯, ২০২০ ৫:২২ পূর্বাহ্ণ
আপডেট : October 05, 2020 8:47 pm

ডেস্ক রিপোর্ট: এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় আবার গ্যাস-সংকটের কবলে পড়েছে চট্টগ্রাম। ফলে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। গত কয়েক দিন যাবত্ চট্টগ্রামে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর উত্পাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনা যাচ্ছে না, ফলে সরবরাহ কমে গেছে। গত ২০১৮ সালে এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়। আগে জাতীয় গ্রিড থেকে চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হতো। এতদিন চট্টগ্রামে প্রায় ৩৪০/৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে গ্যাস সংকট কিছুটা কমলেও এখন এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় আবার সংকট দেখা দিয়েছে। তাই বিদ্যুেকন্দ্রগুলোতে গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না।

পিডিবি জানায়, গ্যাস সংকটে চট্টগ্রামের রাউজান বিদ্যুেকন্দ্রের দুইটি ইউনিট ও শিকলবাহায় ১৫০ মেগাওয়াটের ইউনিটে উত্পাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম বিদ্যুেকন্দ্রের (উত্পাদন) প্রধান প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে গত ২৬ নভেম্বর থেকে বিদ্যুত্ উত্পাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ইউনিট মেরামত করার উদ্যোগ নিয়েছি। ১ নম্বর ইউনিটে ছোট পরিসরে মেরামত কাজ হবে। তবে ২ নম্বর ইউনিটে বয়লারে সমস্যা হয়েছে। ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ইউনিটের মেরামত কাজ হচ্ছে। এছাড়া শিকলবাহায় অবস্থিত ১৫০ মেগাওয়াটের বিদ্যুত্ ইউনিটটি গ্যাস নির্ভর। গত শনিবার থেকে এই ইউনিটে বিদ্যুত্ উত্পাদন বন্ধ রয়েছে।

পেট্রোবাংলার এলএনজি বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, করোনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির মূল্য কম ছিল। এখন হঠাত্ করে দাম বেড়ে গেছে। যাদের সঙ্গে চুক্তি আছে গত কয়েক মাস আগে তাদের কাছ থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক কার্গো বেশি এলএনজি আনা হয়েছে। ফলে ঘাটতি পূরণে স্পট মার্কেট থেকে কেনা সিদ্ধান্ত ছিল। এখন স্পট মার্কেটে দাম বেড়ে গেছে। তাই সরকার এই মুহূর্তে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত দিচ্ছে না। সুবিধামতো সময়ে এলএনজি কেনার প্রস্ততি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান ঐ কর্মকর্তা।

কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রামে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিদ্যমান শিল্পের সম্প্রসারণ ও নতুন শিল্পের জন্য গ্যাসের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ এলএনজি নির্ভরশীল। সিইউএফএল সার কারখানায় অভ্যন্তরিণ সমস্যায় উত্পাদন বন্ধ রয়েছে। তবে কাফকো সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।

কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী অনুপম দত্ত বলেন, এলএনজি সংকটে চট্টগ্রামে বিদ্যুেকন্দ্রগুলোতে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে না। সরবরাহ কমলেও গ্যাসের রেশনিং করা হচ্ছে না।