২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
চার বছরের প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে না আট বছরেও
প্রকাশিত : ডিসেম্বর ০৭, ২০২০ ৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ
আপডেট : October 05, 2020 8:47 pm

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়নে নেওয়া প্রকল্পের সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে পারছে না সরকারি সংস্থা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)। চার বছর মেয়াদের প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে না আট বছরেও। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন জেলা জুড়ে ২২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সঞ্চালন লাইন এবং ১৩টি সাবস্টেশন বসত। কিন্তু নির্মাণ সম্পন্ন না করায় উৎপাদন ও চাহিদা থাকলেও শুধু সঞ্চালন দুর্বলতায় গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিতরণ করা যাচ্ছে না। প্রায় সময়ই বিদ্যমান লাইনে ত্রুটি ও অগ্নিকাণ্ড ঘটছে। ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে জনগণকে। এমন পরিস্থিতিতে প্রকল্পের একটি অংশ বাদ দিয়ে বাকি কাজ ২০২১ সালের জুনের মধ্যে সম্পন্ন করতে বলেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

ন্যাশনাল পাওয়ার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট (এনপিটিএনডি) প্রকল্পটি গ্রহণ করে ২০১২ সালে। ২০১৩ সালে এটি একনেকে অনুমোদন পায়। ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। প্রকল্পের খরচ প্রাক্কলন করা হয় ২ হাজার ৪২৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকার ৩৭৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা এবং পিজিসিবির ২৮০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা সংস্থান করার কথা ছিল। বাকি ১ হাজার ৭৬৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা ঋণ সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয়। কয়েক দফা সময় বাড়িয়েও প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারেনি পিজিসিবি এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। সময় বেড়ে যাওয়ায় খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৫১৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা। সংশোধিত ডিপিপিতে সরকারের খরচের অংশ বেড়ে হয় ৮০০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। অন্যদিকে জাইকার খরচ কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪২২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

প্রকল্পটির আওতায় ১৩টি সাবস্টেশনের (উপকেন্দ্র) মধ্যে ১২টির নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ছয়টি উপকেন্দ্রের বে-এক্সটেনশনের মধ্যে চারটি সম্পন্ন হয়েছে। ২২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সঞ্চালন লাইনের মধ্যে ৩০ কিলোমিটারের বেশি এখনো বাকি রয়েছে। আর প্রকল্পটির আওতায় ২৬ কিলোমিটার হাটহাজারী-রামপুর সঞ্চালন লাইন বাদ দেওয়া হয়েছে।

গত ৫ জুলাইতে অনুষ্ঠিত এনপিটিএনডি প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির সভায় প্রকল্প পরিচালক জানান, হাটহাজারী-রামপুর ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইনের নির্মাণকাজ চলাকালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বানৌজা ভাটিয়ারির আপত্তির কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। সামরিক স্থাপনার নিরাপত্তা এবং ভাটিয়ারির সীমানা নিকট ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নৌবাহিনী লাইনটি তাদের আওতাধীন ঐ এলাকা দিয়ে নির্মাণ করার ব্যাপারে সম্মত হয়নি। বিকল্প পথে লাইনটি নির্মাণ করতে হলে এর দৈর্ঘ্য বেড়ে যায় এবং তা বাস্তবায়নে আরো দুই বছর সময় লাগবে বলে জানায় পিজিসিবি।

তবে পিজিসিবির এমন প্রস্তাবে সায় দেয়নি অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। হাটহাজারী-রামপুর ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইনটি বাদ দিয়ে প্রকল্প ২০২১ সালের জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। আর হাটহাজারী-রামপুর লাইনটি পরবর্তী সময়ে অন্য কোনো প্রকল্পভুক্ত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর পিজিসিবির এমন প্রস্তাবে সায় দেয়নি অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয় গত সেপ্টেম্বরে খরচ আর না বাড়িয়ে আগামী জুনের মধ্যে এনপিটিএনডি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পিজিসিবিকে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দেয় বিদ্যুত্ বিভাগ। তবে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় পিজিসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম কিবরিয়া বলেন, প্রকল্পটি বেশ পুরোনো। দ্রুত সম্পন্নের চেষ্টা করছি আমরা। আগামী বছরের জুনের মধ্যেই তা করার চেষ্টা করব। তবে করোনা সংক্রমণের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করা বেশ কঠিন।