১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
চা চাষে সম্ভাবনায় কাপাসিয়া
প্রকাশিত : নভেম্বর ১৩, ২০২০ ৩:৪১ পূর্বাহ্ণ
আপডেট : October 05, 2020 8:47 pm

ডেস্ক রিপোর্ট: চা চাষ মানেই পাহাড়ি এলাকা। এমনটাই জেনে এসেছে মানুষ। সে অনুযায়ী পাহাড়ি এলাকা সিলেট কিংবা পার্বত্যাঞ্চলকেই চা চাষের উপযোগী হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু এসব ছাপিয়ে এখন নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে রাজধানী-ঘেঁষা ভাওয়াল পরগনার গাজীপুর।

শুধু স্বপ্ন নয়, এটি বাস্তবে রূপ নিতে বসেছে। আর এই স্বপ্ন দেখাচ্ছেন কাপাসিয়ার লুৎফর রহমান নামের এক শিক্ষক।

কাঁঠালের রাজধানী খ্যাত এই এলাকায় ফলে না এমন উদ্ভিদের দেখা মেলা ভার হলেও দীর্ঘদিন ধরেই চাষ না হওয়া ফসলের তালিকায় ছিল চা। এবার সেই অসাধ্য কাজটি সাধ্যের মধ্যে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন অধ্যাপক লুৎফর রহমান। গাজীপুরের কাপাসিয়ার নিজের পৈতৃক বাড়ির অব্যবহৃত ৩ হেক্টর জমিতে তিনি চা চাষ শুরু করেছেন। তার আশা, অসাধ্য এ কাজটির মাধ্যমে গাজীপুরে চা চাষ করে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবেন।

বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়া হলেও লুৎফর রহমানের বেড়ে ওঠা ছিল সিলেটে।

সিলেটের এমসি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী লুৎফর রহমান জীবিকার তাগিদে দীর্ঘ বছর ১৯৭৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সিলেটের বিভিন্ন চা-বাগানের ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) রেজিস্ট্রার পদে দায়িত্ব পালন করছেন। পেশার তাগিদে চায়ের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের চেনা-জানার সূত্র ধরেই চা-চাষের পরিকল্পনা আঁটেন এই অধ্যাপক। বেছে নেন গাজীপুরের কাপাসিয়ার চিনাডুলি গ্রামের পৈতৃক সম্পত্তির পরিত্যক্ত জায়গাগুলো। তার মতে, হাজারো উদ্ভিদের মধ্যে একমাত্র চা গাছগুলোই ব্যতিক্রম। কেননা এর বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে সে আপনাকে কিছু দেবেই। অন্তত চা গাছ কারও সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা করে না। গাজীপুর যেহেতু বন্যামুক্ত এলাকা, উঁচু চালাজমিসমৃদ্ধ, সে জন্যই বাড়ির আশপাশের প্রায় ৩ হেক্টর জমি বেছে নিয়ে বন-জঙ্গল পরিষ্কার করে ২০১৯ সালে সিলেট থেকে ১০ হাজার চারা এনে রোপণ করেন তিনি। অল্প দিনেই তার রোপিত এই চা গাছগুলো বেড়ে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে এর সম্ভাবনা তৈরি করায় চলতি বছর বাড়ির পাশের শীতলক্ষ্যা নদীর চরে আরও বেশ কিছু জমিতে তিনি চা গাছ রোপণ করেন।

তার আশা, কয়েক বছরেই এই বাগান থেকে উৎপাদনে যেতে পারবেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আগে আমাদের দেশে সিটিসি (অর্থোডক্স) জাতীয় চা চাষ হতো। দিন দিন এ-জাতীয় চা চাষ কমে গেছে। বর্তমানে এ-জাতীয় চা শুধু প্রতিবেশী ভারতের দার্জিলিংয়ে উৎপাদিত হয়। ’ অর্থোডক্স অর্থাৎ প্রাচীন চা তিনি এই গাজীপুর থেকেই উৎপাদন করতে চান। সে লক্ষ্যেই তার পথচলা। বর্তমানে সারা দেশেই চা চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে। গাজীপুরের পাশেই ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় হচ্ছে চা চাষ। সে হিসেবে গাজীপুরে চা চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। তার মতে, যেখানে পানি জমে না থাকে, যে মাটির পানি ধরে রাখার ক্ষমতা বেশি, সেচের ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানেই মূলত চা চাষ হতে পারে। এমনকি সমতল ভূমিতেও হতে পারে চা গাছ। বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ এই অর্থকরী ফসলের সম্প্রসারণে আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার দাবি এই অধ্যাপকের।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মোহাম্মদ আলী বলেন, চা দেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল হওয়ায় এর চাষ সম্প্রসারণে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের অনেক এলাকার সমতলভূমির পাশাপাশি গাজীপুরের পাশেই ময়মনসিংহেও চা চাষ হচ্ছে। তবে এখনো গাজীপুরের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি। হয়তো পরীক্ষা করলে বলা যেতে পারে। তিনি বলেন, শুধু চা চাষ করলেই হবে না। এর গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে প্রক্রিয়াজাত করা। সে বিষয়টিতেও নজর দিতে হবে।