১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
নদী রক্ষায় টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে
প্রকাশিত : নভেম্বর ৩০, ২০২০ ৫:১৩ পূর্বাহ্ণ
আপডেট : October 05, 2020 8:47 pm

ডেস্ক রিপোর্ট: নদী রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়টি বিবেচনা করে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পরিকল্পনা সাজাতে হবে ১০০ বছর পর কী হবে তা মাথায় রেখে। ‘বঙ্গবন্ধু ও নদীমাতৃক বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় রোববার তিনি এ আহ্বান জানান।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে এ সেমিনারের আয়োজন করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। নৌ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ খালেদ ইকবাল।

সেমিনারে তথ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষের দেহের শিরা-উপশিরা নষ্ট হলে যেমন মৃত্যু অনিবার্য, ঠিক একইভাবে আমাদের নদীগুলো দখল-দূষণ থেকে রক্ষা করতে না পারলে দেশকে রক্ষা করা কঠিন, দেশের জলবায়ু ও নদীপারের মানুষ রক্ষা করা কঠিন। ধীরে ধীরে আমরা নদীকে গলা টিপে মেরে ফেলছি, দূষিত করছি, দখল করছি। এভাবে চললে ভবিষ্যতে সব প্রযুক্তির ব্যবহার করেও নদী রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

নদী দখলমুক্ত করতে নৌ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রী সাহসের সঙ্গে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তারা যেন আবার নদী দখল করতে না পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের নদীগুলোর ৯৩ ভাগের উৎস বাংলাদেশের বাইরে। দেশের ভেতর দিয়ে এসব নদী প্রবাহিত হয়ে সমুদ্রে পড়ার পথে ৪০ থেকে ৪৫ মিলিয়ন টন পলি জমা হয়। এভাবে গত ৪ বছরে সমুদ্রে বেশ কয়েকটি দ্বীপচর জেগেছে। ৫০ বছর আগেও সুবর্ণচর ছিল না, ভাসানচর ছিল না। চর পড়ার এ সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ব্যাপক পরিকল্পনা নেয়া সম্ভব। কোথায় মানুষকে থাকতে দেব, কোথায় ফসল উৎপাদন করব, কোথায় রবিশস্য উৎপাদন করব- এসব বিষয়ে সারা দেশে একটা ফিজিক্যাল প্ল্যান দরকার।

প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আমরা আজ নদীমাতৃকতার সুফল ভোগ করতে পারতাম। আমরা এখন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নদীরক্ষার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছি।

নৌসচিব মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, নদী রক্ষায় আমরা পরিকল্পিত ড্রেজিং করছি। মাতারবাড়ি, চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর উন্নয়ন কাজ এগিয়ে চলছে।

নৌ পরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমোডর এ জেড এম জালাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক, ইন্সটিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের সিনিয়র পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ সাইফুল আলম, বুয়েটের পানিসম্পদ প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান ও লেখক, গবেষক শেখ রোকন।