১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
শুধু ভবন নয়, শহর গড়ছে রূপায়ণ: মাহির আলী খাঁন রাতুল
প্রকাশিত : অক্টোবর ১৯, ২০২০ ৬:৪২ পূর্বাহ্ণ
আপডেট : October 05, 2020 8:47 pm

রূপায়ণ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মাহির আলী খাঁন রাতুল। আবাসন খাতের ব্যবসার সার্বিক পরিস্থিতি ও আগামী দিনের আবাসন নিয়ে রূপায়ণ গ্রুপের পরিকল্পনাসহ নানা বিষয়ে সমকালের সঙ্গে কথা বলেছেন।

প্রশ্ন: করোনাকালে আবাসন খাতের ব্যবসা কেমন যাচ্ছে?

মাহির আলী খাঁন: আবাসন খাতের ব্যবসা এখন মোটামুটি ভালো। এখন পরিকল্পিত আবাসনে গ্রাহকদের মনোযোগ বাড়ছে। কিছু গ্রাহক এতে বেশ ভালো সাড়া দিচ্ছেন। জাতীয় বাজেটে বিনা প্রশ্নে কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ায় বেচাকেনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। করছাড় দিলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

প্রশ্ন: করোনাকালেও আবাসনে বিনিয়োগের আগ্রহ বৃদ্ধির কী কী কারণ রয়েছে বলে আপনার মনে হয়?

মাহির আলী খাঁন: আবাসনে বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়ার কয়েকটি কারণ আছে। যেমন- করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা থেকে কেউ কেউ এমন বাসা খুঁজছেন, যেখানে স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এবার মহামারি হয়েছে। আগামী দিনে এমন পরিস্থিতি হলে শুধু বাসা হিসেবে ব্যবহার নয়, সেখানে বসেই অফিস পরিচালনাসহ অন্যান্য সব কাজ করা যায়, এমন চিন্তাও করছেন অনেকে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে নিরাপদে থাকতে হবে- এমন ভাবনা থেকে ফ্ল্যাটকে এখন তারা শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে দেখছেন না। করোনাকালে বাসায় বসে কাজ করার অভ্যাস থেকে এমন চিন্তা করা হচ্ছে। আবার অনেকে ভবিষ্যতের বিনিয়োগ হিসেবে কিনে রাখছেন। আর এই চাহিদা থেকেই পরিকল্পিত আবাসন তৈরিতে কাজ করছে বিভিন্ন ডেভেলপার কোম্পানি।

প্রশ্ন: সুউচ্চ ভবনসহ আবাসনে নানা ধরনের পরিবর্তন এসেছে। রূপায়ণ আবাসন গড়তে কেমন পরিকল্পনা করছে?

মাহির আলী খাঁন: শুধু ভবন নয়, শহর গড়ছে রূপায়ণ। রূপায়ণ সিটি ব্র্যান্ড নিয়ে উত্তরায় শহর উন্নয়নের কাজ হচ্ছে। রূপায়ণ সিটি উত্তরাকে আমরা সিটি ব্র্যান্ডের প্রথম প্রকল্প হিসেবে মার্কেটে নিয়ে এসেছি। এ বেসরকরি শহর পরিকল্পনায় আলাদা ব্যবস্থাপনায় গড়া হচ্ছে। এখানে যারা কাজ করছেন তারা সবাই শহর বিশেষজ্ঞ। দেশে এখন সিটি ব্র্যান্ডের আবাসন প্রয়োজন। কারণ, ভবিষ্যৎ আবাসনের চাহিদা মোকাবিলায় একটি ভবন কিংবা একটি ফ্ল্যাট দিয়ে হবে না। এ চাহিদা মেটাতে একটি বেসরকারি নগরীর মাধ্যমে হতে হবে। মানুষ একটি জায়গায় থাকলে সেখান থেকেই যেন নিরাপদে সামাজিক কর্মকাণ্ডসহ সব কাজ করতে পারে। করোনা মানুষের এ ভাবনার জায়গাকে আরও শানিত করেছে। কারণ জীবন থেমে থাকবে না। এ জন্য এখন থেকেই ভাবতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটা, পারিবারিক আড্ডা, খেলাধুলা, নামাজ, ব্যয়াম ও মুক্ত বায়ুতে ঘুরে বেড়ানো থামিয়ে দেওয়া যাবে না। এর জন্য নিরাপদ বাসস্থানে সব সুবিধা খুঁজে নিতে চায় সবাই। এ চিন্তা থেকেই রূপায়ণ আবাসন শহর গড়ছে।

প্রশ্ন: শহরকেন্দ্রিক আবাসনে ক্রেতাদের সাড়া কেমন পাচ্ছেন?

মাহির আলী খাঁন: রূপায়ণ সিটি উত্তরার আবাসন পরিকল্পনাকে গ্রাহকরা খুব ইতিবাচকভবে দেখছে। সবার মধ্যে এমন চিন্তা প্রকাশ পেয়েছে, এমন সিটিতে তারা থাকতে চান। শুধু উচ্চ শ্রেণির মানুষ নয়, সব শ্রেণির মানুষ এমন সমাজে থাকতে চায়। যেখানে সুস্থ ও ভালোভাবে থাকতে পারবেন। আগামী দিনে এমন আবাসনের চাহিদা বাড়বে। তা এখন চাহিদা থেকে বোঝা যাচ্ছে। ‘সিটি ব্র্যান্ড’ ক্রেতাদের কাছে রূপায়ণ প্রথম নিয়ে আসছে। শুরুতে বুঝতে সময় নিলেও এখন বেশ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

প্রশ্ন: রূপায়ণ সিটি উত্তরা প্রকল্পে কী কী সুবিধা রয়েছে?

মাহির আলী খাঁন: বেসরকারি পর্যায়ে দেশে এই প্রথম প্রিমিয়াম মেগা গেটেড কমিউনিটি ‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’ গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে রূপায়ণ গ্রুপ। এটি গড়ে উঠেছে প্রায় ১৩৫ বিঘা জমিতে। মোট জমির ৬৩ শতাংশ জায়গাই থাকবে ফাঁকা (ওপেন স্পেস) বাসিন্দাদের জন্য বিশুদ্ধ অক্সিজেনের জোগানোর জন্যই মূলত এ ব্যবস্থা। এ ছাড়া এখানে থাকছে কমিউনিটি ক্লাব, মসজিদ, খেলার মাঠ, স্কুল, সাড়ে ছয় কিলোমিটার জগিং ট্র্যাক ও গাড়ি চলাচলের পৃথক রাস্তা। আর সবই মিলছে একই গেটের ভেতরে। ‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’য় আরও থাকছে প্রিমিয়াম কন্ডো অ্যাপার্টমেন্ট, স্কাই ভিলা, বিপণন কেন্দ্র, অফিস স্পেস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ রয়েছে জীবনের প্রয়োজন মেটানোর সব আয়োজন। এ সিটির মধ্যে ২৪ ঘণ্টা নিরাপদে চলাচল করা যাবে। এতে বাইরের লোক চলাচল করতে পারবে না। রূপায়ণ সিটি উত্তরায় ৩০ লাখ বর্গফুটের মার্কেট হবে। এটি হবে দেশের প্রথম বেসরকারি শহর। একটি ইউনিট কেনার মাধ্যমে শহর কিনছেন ক্রেতারা। বিভিন্ন যায়গায় আলাদা সোসাইটি আছে। সেখানে সবার ব্যবহারের জন্য সব সুবিধা থাকে না। তখন একটি ফ্ল্যাটে সীমাবদ্ধ থাকতে হয়। এ শহরে সব সুবিধা ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। অন্য কোথাও এমন সুবিধা মিলবে না।

প্রশ্ন: আগামী দিনে আরও বেসরকারি শহর গড়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাই।

মাহির আলী খাঁন: রূপায়ণ দীর্ঘদিন ধরে আবাসন গড়ছে। সব শ্রেণির মানুষের জন্য আবাসনের চাহিদা মেটাচ্ছে। এর বড় উদাহরণ নারায়ণগঞ্জে রূপায়ণ টাউন। সিটি ব্র্যান্ডের মাধ্যমে আরও জোরালোভাবে শহর গড়ার পরিকল্পনা আছে। এখানে যারা থাকবে তাদের ইউটিলিটি ও সব সেবা দেবে রূপায়ণ। এমন সিটি গড়ার দক্ষতা রূপায়ণের আছে। অন্য কেউ এভাবে সিটি গড়েনি। রূপায়ণ ঢাকার বাইরে ও আশপাশে ভবিষ্যতে আরও সিটি উন্নয়ন করবে। এমনকি দেশের বাইরেও সিটি উন্নয়নের কাজ করবে রূপায়ণের এ সিটি ব্র্যান্ড। ঢাকার আশপাশে আরও অনেক শহর গড়া হবে। এরপর পূর্বাচল ও সোনাগাঁয়ে শহর গড়া হবে।