১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
সিলেট নগরীর খোলা ড্রেন যেন মরণফাঁদ
প্রকাশিত : ডিসেম্বর ২০, ২০২০ ৬:০০ পূর্বাহ্ণ
আপডেট : October 05, 2020 8:47 pm

ডেস্ক রিপোর্ট: সিলেট নগরের জিন্দাবাজার-জল্লারপাড় সড়কের পাশের ড্রেন সংস্কারের কাজ চলছে গত এক সপ্তাহ ধরে। এরপর থেকে খুঁড়ে রাখা ড্রেনটি উন্মুক্ত রয়েছে। খোলা নালায় জমেছে ময়লা পানি। সংস্কারকাজে ব্যবহূত আঁকাবাঁকা রড বেরিয়ে আছে বিপজ্জনকভাবে। নালার কাদামাটি স্তূপ করে রাখা হয়েছে সড়কের পাশে।

খুঁড়ে রাখার পর থেকে এ নালায় প্রতিদিনই ঘটছে একাধিক দুর্ঘটনা। অসতর্ক অবস্থায় উন্মুক্ত নালায় পড়ে যাচ্ছেন পথচারীদের কেউ কেউ। রাতের অন্ধকারে এমন দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে।

কেবল এই সড়কই নয়, সিলেট নগরজুড়েই ড্রেন সংস্কারের কাজ চলছে। সংস্কারকৃত ও সংস্কারকাজ চলা এসব ড্রেনের বেশির ভাগই ফেলে রাখা হয়েছে উন্মুক্তভাবে। নেই কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কাজ চলা এলাকায় নেই সতর্কবার্তাও। ফলে অসতর্কভাবে পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছেন অনেকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্প ও তদারকির কারণেই এসব ঘটনা ঘটছে। সিটি করপোরেশন ঠিকাদারকে কাজ বুঝিয়ে দিয়েই দায় সারছে। তদারকি না থাকায় ঠিকাদার পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নিয়েই এসব উন্নয়নকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এর ফল ভোগ করতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

নগরের আম্বরখানা এলাকায় নির্মাণাধীন এ রকম একটি ড্রেনে ৭ ডিসেম্বর পড়ে যান প্রবীণ শিক্ষক ও ছড়াকার আবদুল বাসিত মোহাম্মদ। এ সময় ড্রেনে বেরিয়ে থাকা রড তার পেটে ঢুকে যায়। এরপর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

আবদুল বাসিতের মৃত্যুকে হত্যা দাবি করে ‘সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন, সিলেট’-এর সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম বলেন, এটি নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়। এটি হত্যাকাণ্ড। সিটি করপোরেশনের অপরিকল্পিত ও দায়সারা উন্নয়নকাজের বলি হয়েছেন আবদুল বাসিত। উন্নয়নকাজের নামে অর্থের লুটপাট চলছে। ফলে ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই কাজ করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশন এ হত্যার দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।

গত বুধবার সিলেট নগর ঘুরে দেখা গেছে, নগরের জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা, বন্দরবাজার, আম্বরখানা, দরগাগেট, মজুমদারি, চৌকিদেখি, শিবগঞ্জ, মিরাবাজার, শাহী ঈদগাহ, কুমারপাড়া, নাইওরপুল, মদিনা মার্কেট, সুবিদবাজারসহ অন্তত ২২টি এলাকায় ড্রেন নির্মাণ ও সংস্কারকাজ চলছে। কোনো জায়গায়ই নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। নেই কোনো সতর্কবার্তা। ড্রেনের জন্য গর্ত খুঁড়ে দীর্ঘদিন ধরে উন্মুক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। এসব গর্তে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ফেলে রাখা হয়েছে নির্মাণসামগ্রী।

নগরের শিবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা হিতাংশু কর বাবু বলেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে দেখছি আমাদের এলাকায় ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মিত ড্রেন অনেক জায়গায় খোলা অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। অনেক জায়গায় মাটি খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। প্রতিদিনই এসব খোলা নালায় কেউ না কেউ পড়ছেন। তবে আবদুল বাসিতের মৃত্যুর পর নগরের কয়েকটি এলাকায় নির্মাণাধীন ড্রেনের আশপাশে লাল কাপড় বেঁধে বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, নগরে ৯৭০ কিলোমিটার ড্রেন রয়েছে। এর মধ্যে ৬৭০ কিলোমিটার অংশ উন্মুক্ত। বর্তমানে ৮০ কিলোমিটার অংশের নির্মাণকাজ চলছে। এতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে।

সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আল আজাদ বলেন, ইচ্ছামতো খোঁড়াখুঁড়ি, লোক দেখানো উন্নয়নকাজ বন্ধ করতে হবে। তা না হলে সুফলের চেয়ে দুর্ভোগই বেশি পোহাতে হবে। খোলা ড্রেনে পড়ে একজন প্রবীণ ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, আবদুল বাসিতের দুর্ঘটনার পর ঠিকাদারদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ মৃত্যুর ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।