১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
সুন্দরবনসহ উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য টেকসই পরিকল্পনা নিতে হবে
প্রকাশিত : ডিসেম্বর ২৯, ২০২০ ৫:০৪ পূর্বাহ্ণ
আপডেট : October 05, 2020 8:47 pm

ডেস্ক রিপোর্ট: অনলাইন সেমিনারে পরিবেশ ও নাগরিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিরা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবনসহ সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চল দুর্যোগের ঝুঁকিতে আছে। এই ঝুঁকি মোকাবেলা করে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট ও টেকসই কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

গতকাল সোমবার ‘সুন্দরবন উপকূলে দুর্যোগের ঝুঁকি ও করণীয়’ শীর্ষক ওই সেমিনার সঞ্চালনা করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র। সূচনা বক্তব্য তুলে ধরেন বেসরকারি সংস্থা ফেইথ ইন অ্যাকশনের নৃপেণ বৈদ্য। আলোচনায় অংশ নেন খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনের সংসদ সদস্য মো: আক্তারুজ্জামান বাবু, শ্যামনগর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো: সাঈদুজ্জামান সাঈদ, কেএনএইচ-জার্মানির ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর মালিনদা টিনা বৈদ্য ও কর্মসূচি সমন্বয়কারী মনিরুজ্জামান মুকুল, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, নৌসড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে, উন্নয়ন ধারা ট্রাস্টের সদস্য সচিব আমিনুর রসুল বাবুল, লিডার্সের নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মণ্ডল, সচেতন সংস্থার সাকিলা পারভীন, খুলনার সাংবাদিক শেখ আল-এহসান, পরিবেশ সুক্ষায় উপকূলীয় জোট খুলনার সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন বিপ্লব প্রমুখ।

আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিনিধিবৃন্দ বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভর করে বেড়িবাঁধের ওপর। বাঁধের ক্ষতি হলে তাদের সবকিছু ভেসে যায়। বাড়িঘর নষ্ট ও ফসলের ক্ষতি হয়। তাই ওই অঞ্চলের মানুষের কাছে জরুরি খাবার না দিয়ে, বাঁধটা শক্ত করে বানিয়ে দেয়ার দাবিটাই প্রধান। গত ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আমফানের পর এই দাবি আরো জোরদার হয়েছে।

বক্তারা সুন্দরবন উপকূলকে দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণার দাবি জানিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগকে মাথায় রেখে স্থায়ী ও মজবুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে, যার নিচে ১০০ ফুট, ওপরে ৩০ ফুট এবং যার উচ্চতা হবে ৩০ ফুট। বাঁধ নির্মাণের পর বাঁধের ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ ও বাঁধের দু’পাশে বনায়ন করতে হবে। বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জরুরি তহবিল গঠন ও বাঁধ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
ওয়াপদা বাঁধের ১০০ মিটারের মধ্যে চিংড়ি বা কাঁকড়ার ঘের তৈরিতে সরকারের দেয়া নিষেধাজ্ঞা দ্রুত কার্যকর করতে হবে।