১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
সড়কে ভাঙন : যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের পথে চিতলমারীর ২০ গ্রাম
প্রকাশিত : ডিসেম্বর ১৭, ২০২০ ৫:১৫ পূর্বাহ্ণ
আপডেট : October 05, 2020 8:47 pm

ডেস্ক রিপোর্ট: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার নালুয়া-বড়গুনি সড়কে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকায় যানবহন চলাচলে চরম বিঘœ ঘটায় কমপক্ষে ২০ গ্রামের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয়দের দাবিÑ কিছু বালু ব্যবসায়ী ও খাল খননের পানি সেচের কারণে এ দুরবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৬/১ প্রজেক্টের আওতায় প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে চিতলমারী সদর বাজারের ত্রি-মোহনা থেকে (বড়গুনি) মধুমতি নদী পর্যন্ত সাড়ে ১২ কিলোমিটার হক ক্যানেলের পুনঃখনন কাজ শুরু হয়েছে। ওই ক্যানেলের পাড় ঘেঁষা এলজিইডি’র আওতাধীন নালুয়া গ্রোথ সেন্টার থেকে বড়গুনি বাজার পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে। ক্যানেল খননের শুরুতেই পানি সেচ দেয়ার সাথে সাথে ওই রাস্তার ১৫০ ফুট কার্পেটিংসহ নদীতে বিলীন হতে বসেছে। এতে ভাঙনকবলিত এলাকায় যানবহন চলাচলে চরম বিঘœ সৃষ্টি হয়েছে। যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। ঘটনাস্থল ঘোলা গ্রামের নাজিম শেখ, ছাব্বির মোল্লা ও বড়গুনি গ্রামের কামরুজ্জামান, মহসিন আলী বলেন, সম্প্রতি কিছু অসাধু বালু ব্যবসায়ী এই ক্যানেল দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। তাই ক্যানেল পুনঃখননের জন্য পানি সেচ দেয়ার সাথে সাথে রাস্তা ভেঙে নদীতে বিলীন হচ্ছে। আমরা এই বালুচক্রের বিচার দাবি করছি এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত রাস্তা মেরামত করে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ সরদার বলেন, এই রাস্তা দিয়ে ইট বোঝাই ভারী ট্রাক চলাচল করে। ক্যানেল খননের জন্য পানি সেচ দেয়ার সাথে সাথে ঘোলা নামক স্থানে ১৫০ ফুট কার্পেটিংসহ রাস্তা নদীতে বিলীন হতে বসেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কমপক্ষে ২০ গ্রামের মানুষের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শামিম আহসান জেভির স্বত্বাধিকারী শামিম আহসান বলেন, শুনেছি বালু উত্তোলনের জন্য ওই রাস্তার বিভিন্ন জায়গা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বললে পরবর্তী ববস্থা নেবো।

চিতলমারী এলজিইডির সহকারী উপপ্রকৌশলী রাশেদ্দুজ্জামান খান বলেন, পাকা সড়কটির ভাঙনকবলিত এলাকার খোঁজখবর নেয়া হয়েছে।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফুল আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনান্থল পরিদর্শন করেছি। তিনটি বালু উত্তোলনের অবৈধ ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথেও যোগাযোগ করছি। ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
তবে বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম মোবাইল ফোনে জানান, খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি
দ্রুত সমাধান করা হবে।