১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
১৭ বছরেও পাইপলাইনে পানি পায়নি ফুলবাড়ী পৌরবাসী
প্রকাশিত : ডিসেম্বর ০৭, ২০২০ ৪:৩১ পূর্বাহ্ণ
আপডেট : October 05, 2020 8:47 pm

ডেস্ক রিপোর্ট: দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর এলাকায় ভূগর্ভে পাইপলাইন স্থাপনসহ পাম্পঘর নির্মাণ করা হলেও নাগরিকদের বিশুদ্ধ পানীয়জল সরবরাহের কার্যক্রম দীর্ঘ ১৭ বছরেও চালু হয়নি। দীর্ঘদিন অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে ৩৪ কিলোমিটার পাইপলাইনসহ পাম্প হাউজের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ।

ফুলবাড়ী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পৌরবাসীর নাগরিক সুবিধা হিসেবে পানি সরবরাহের জন্য ২০০৩-২০০৪ অর্থবছরে ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে চার কিলোমিটার পৌর এলাকায় ভূগর্ভে পানির পাইপলাইন স্থাপন করা হয়। চার কিলোমিটার এলাকায় পাইপলাইন স্থাপনের এক যুগ পর ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে ১ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ কিলোমিটার এলাকায় পাইপলাইন স্থাপন করা হয়। একই সময়ে ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ফুলবাড়ী সরকারি কলেজ চত্বরে, পৌরসভা ভবনে, উপজেলা পরিষদ চত্বরে ও কানাহার রেল স্টেশন এলাকার চার স্থানে চারটি পাম্পঘর নির্মাণ করা হয়। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ১ কোটি ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৭ টাকা ব্যয়ে আরো ২০ কিলোমিটার এলাকায় পাইপলাইন স্থাপন করা হয়।

এদিকে, ৩ কোটি টাকার বেশি অর্থ ব্যয়ে ভূগর্ভে পাইপলাইন স্থাপনসহ পাম্পঘর নির্মাণ করা হলেও সেগুলো অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর আগে পানি সরবরাহের কার্যক্রমটি শুরু হলেও কবে শেষ হবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে পর্যায়ক্রমে দুইটি নির্বাচনের মাধ্যমে মেয়র ও কাউন্সিলর বদল হয় এবং আগামী ২৮ ডিসেম্বর আবারও পৌর নির্বাচন আসলেও পাইপলাইনে পানি পায়নি পৌরবাসী।

ফুলবাড়ী উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপপ্রকৌশলী মো. সোহানুর রহমান সোহান বলেন, ‘২০১৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর এলাকায় পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শেষ করে পানি সরবরাহ কার্যক্রম পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু তারা এখনো পানি সরবরাহ শুরু করেনি। পানি সরবরাহের জন্য দাপ্তরিকভাবে একাধিকবার পৌর কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তারা কিছুই জানাননি। আমরা পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শেষ করে হস্তান্তর করেছি এখন সেটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পৌর কর্তৃপক্ষের। এছাড়াও ৪০ পৌরসভা ও গ্রোথ প্রকল্পের আওতায় ফুলবাড়ী পৌর কর্তৃপক্ষকে ৩০টি টিউবওয়েল দেওয়া হয়েছে।

ফুলবাড়ী পৌর মেয়র মো. মুরতুজা সরকার মানিক বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ভূগর্ভে পানির পাইপলাইন চালু করতে বলেছেন। পৌরসভা থেকে এ বিষয়ে মাইকিং করা হয়েছে। কিন্তু কেউ পানির জন্য আবেদন করেনি। পানির পাইপের কাজ এখনো অসমাপ্ত রয়েছে। সে অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ সম্পন্ন করা হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ফুলবাড়ীতে ৭০ ফুট ভূগর্ভেই পানি পাওয়া যায়, কিন্তু কোথাও কোথাও ৫০০ ফুট ভূগর্ভেও পানি মিলে না তাই ফুলবাড়ীতে এ পানির চাহিদা কম।’